বোতলজাত পানি কোন পদ্ধতিতে বিশুদ্ধকরণ করা হয়?

Updated: 1 year ago
  • পরিস্রাবণ
  • ক্লোরিনেশন
  • স্ফুটন
  • পাতন
3.4k
ব্যাখ্যাঃ

বোতলজাত পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য পাতন (Distillation) একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে পানিকে প্রথমে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা হয় এবং তারপর সেই বাষ্পকে ঠান্ডা করে আবার তরল পানিতে রূপান্তর করা হয়। এর ফলে পানিতে থাকা প্রায় সব ধরনের অপদ্রব্য, যেমন – দ্রবীভূত লবণ, খনিজ পদার্থ, ভারী ধাতু, এবং জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস) অপসারিত হয়ে অত্যন্ত বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায়, যা বোতলজাত করার জন্য উপযুক্ত।

অন্যান্য অপশনগুলোর কার্যকারিতা এবং সীমাবদ্ধতা নিম্নরূপ:

        
  • পরিস্রাবণ (Filtration): এটি পানিতে ভাসমান কঠিন পদার্থ (suspended particles) দূর করতে সাহায্য করে। তবে সাধারণ পরিস্রাবণের মাধ্যমে দ্রবীভূত পদার্থ বা সকল প্রকার জীবাণু দূর করা সম্ভব নয়। বোতলজাত পানির জন্য অনেক সময় রিভার্স অসমোসিস (Reverse Osmosis - RO) এর মতো উন্নত পরিস্রাবণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যা সাধারণ 'পরিস্রাবণ' এর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হলেও, 'পাতন' একটি স্বতন্ত্র ও উচ্চ মাত্রার বিশুদ্ধকরণ পদ্ধতি।
  •     
  • ক্লোরিনেশন (Chlorination): ক্লোরিন যোগ করে পানিতে থাকা জীবাণু ধ্বংস করা হয়। এটি পানীয় জলের জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, ক্লোরিনের কারণে পানিতে এক ধরনের গন্ধ ও স্বাদ তৈরি হতে পারে এবং এটি পানিতে দ্রবীভূত অপদ্রব্য দূর করে না।
  •     
  • স্ফুটন (Boiling): পানি ফুটিয়ে জীবাণু ধ্বংস করা যায়, কিন্তু এটি পানিতে দ্রবীভূত লবণ বা অন্যান্য রাসায়নিক অপদ্রব্য দূর করতে পারে না। এটি সাধারণত ছোট পরিসরে বা গৃহস্থালীর ব্যবহারের জন্য উপযোগী, শিল্পক্ষেত্রে বৃহৎ পরিসরে বোতলজাত পানি উৎপাদনের জন্য এটি ব্যবহার করা হয় না।

সুতরাং, উল্লেখিত বিকল্পগুলির মধ্যে, পাতন পদ্ধতিটি বোতলজাত পানির জন্য উচ্চ মাত্রার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago

ভূপৃষ্ঠে যে পানি পাওয়া যায় তাতে নানারকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, এমনকি রোগ সৃষ্টি করতে পারে এরূপ জীবন ধ্বংসকারী জীবাণুও থাকে। তাই ব্যবহারের আগে পানি বিশুদ্ধ করে নিতে হয়। ভূগর্ভের পানি সাধারণত রোগ-জীবাণু মুক্ত, কিন্তু এই পানিতে আর্সেনিকের মতো নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতির কথা এখন আমরা সবাই জানি। পানি কীভাবে বিশুদ্ধকরণ করা হবে, সেটি নির্ভর করে এটি কোন কাজে ব্যবহার করা হবে, তার ওপর। স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার জন্য অত্যন্ত বিশুদ্ধ পানি লাগলেও জমিতে সেচকাজের জন্য তত বিশুদ্ধ পানির দরকার হয় না। সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলো হলো পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। নিচে এই প্রক্রিয়াগুলো বর্ণনা করা হলো:

পরিস্রাবণ
ষষ্ঠ শ্রেণিতে তোমরা পরিস্রাবণ সম্পর্কে জেনেছ। পরিস্রাবণ হলো তরল আর কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলা-বালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা-অ্যাবর্জনার কণা থাকে। এদেরকে পরিস্রাবণ করে পানি থেকে দূর করা হয়। এটি করার জন্য পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়, তখন পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলো বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের বাসায় আমরা যেসব ফিল্টার ব্যবহার করি, সেখানে আরো উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয় ।
 

ক্লোরিনেশন
যদি পানিতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে তা অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সেটি করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এদের মাঝে অন্যতম হচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস (Cl))। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার [(Ca(OCl)Cl] এবং আরও কিছু পদার্থ, যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলো ব্যবহার করা হয়।
আমাদের দেশে বন্যার সময় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য যে ট্যাবলেট বা কিট ব্যবহার করা হয়, সেটি কী? সেটি হলো মূলত সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড (NaOCl)। এর মাঝে যে ক্লোরিন থাকে, সেটি পানিতে থাকা রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে ফেলে। ক্লোরিন ছাড়াও ওজোন (O,) গ্যাস দিয়ে অথবা অতিবেগুনি রশ্মি দিয়েও পানিতে থাকা রোগ-জীবাণু ধ্বংস করা যায়। বোতলজাত পানির কারখানায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করে পানিকে রোগ-জীবাণুমুক্ত করা হয়।

স্ফুটন
পানির স্ফুটনের কথা তোমরা সবাই জান। এ প্রক্রিয়ায় কি পানিকে জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব? হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। পানিকে খুব ভালোভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। প্রশ্ন হতে পারে, জীবাণুমুক্ত করার জন্য কতক্ষণ পানি ফুটাতে হয়? স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা-বাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।
 

পাতন
পাতন প্রক্রিয়ার কথা তোমরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে জেনেছ। যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। যেমন: ঔষধ তৈরির জন্য, পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে সেটাকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে ।

 

Related Question

View All
Updated: 2 months ago
  • সোয়াইন ফ্লু
  • বসন্ত
  • হাম
  • আমাশয়
27
  • পরিস্রাবণ
  • ক্লোরিনেশন
  • স্ফুটন
  • পাতন
45
  • পাতন
  • স্ফুটন
  • পরিস্রাবণ
  • ক্লোরিনেশন
29
  • পরিস্রাবণ
  • ক্লোরিনেশন
  • স্ফুটন
  • পাতন
23
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই